It seems we can’t find what you’re looking for. Perhaps searching can help.
পরিসম্পদ দায় ও ব্যয় বিবরণী
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী
যদি কোন বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরন করেন তাহলে আয়বর্ষের শেষ তারিখে তাঁর নিজের, spouse এর (spouse করদাতা না থাকলে) এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সকল প্রকার সম্পদ ও দায়ের বিবরণী ঐ ব্যক্তির আয়কর রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে। শর্তসমূহ হলো
আয়বর্ষের শেষ তারিখে মোট পরিসম্পদ (gross wealth) এর পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকার অধিক হলে; অথবা
(খ) আয়বর্ষের শেষ তারিখে মোটর গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) এর মালিকানা থাকলে; অথবা (গ) আয়বর্ষে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোন গৃহ-সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টের
মালিক হলে অথবা গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে।
তবে বর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ না করা সত্বেও কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা চাইলে
স্ব-প্রণোদিতভাবে (voluntarily) পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে পারবেন। অনিবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি নয় এমন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা কেবলমাত্র
বাংলাদেশে অবস্থিত সম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করবেন।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বাংলাদেশে দুই ভাবে নিবাসী হতে পারেন, যেমন তিনি যদি বাংলাদেশে কোনোবছরে ১৮২ দিন বা ততোধিক দিন অবস্থান করেন; অথবা তিনি যদি বাংলাদেশে কোনোবছরে মোট ৯০ দিন বা ততোধিক দিন এবং ঐ বছরের পূর্ববর্তী ৪ বছরে মোট ৩৬৫ দিন অবস্থান করেন।
এর ব্যতিক্রম হলে, ব্যক্তিশ্রণির করদাতারা অনিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো আয়বছরে কোনো ব্যক্তি করদাতার ৪ লক্ষ টাকার অধিক আয় থাকলে তাকে আবশ্যিকভাবে জীবন যাপনের ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে হবে।
কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টদেরকে আয় নির্বিশেষে আবশ্যিকভাবে জীবন
যাপনের ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে হবে।
উপরোক্ত শর্তসমূহ পূরণ না করার কারণে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করেননি এমন যেকোন ব্যক্তিকে উপ-কর কমিশনার ধারা ৮০ এর উপধারা (৭) অনুযায়ী নোটিশ প্রেরণ করে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করার জন্য বলতে পারেন।
আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধনের মাধ্যমে পরিসম্পদ, দায় ও রায় প্রদর্শনের জন্য ২০১৬-১৭ করবর্ষে নতুন ফIT-10B2016 প্রবর্তন করা হয়েছে। যে সকল করদাতা নতুন রিটার্ন ফরম (IT-IIGA2016) ব্যবহার করবেন তাদেরকে IT-10B2016 ফরম ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তি করদাতার ধন অথবা কৃমি বা অকৃষি সম্পত্তি থাকলে IT-10B2016 ফরমের সাথে schedule 25 সংযুক্ত করতে হবে।
যে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা পুরোনো ফরমে রিটার্ন দাখিল করবেন তারা ঐ রিটার্নের সাথে সংশ্লিষ্ট আগের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করবেন।
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী পুরণে সাধারণ জ্ঞাতব্য বিষয়:
১। পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে আয়বর্ষের শেষ তারিখের পরিসম্পদ (assets) ও দায় (liabilities) এর সমাপনী জের (closing balance) এর তথ্য প্রদান করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ জুন ২০২২ তারিখে কোন করদাতার যদি মোট ৭,০০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকে এবং তিনি যদি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে আরো ৩,০০,০০০/- টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন এবং আয়বর্ষের শেষ তারিখ পর্যন্ত কোন সঞ্চয়পত্র না ডাঙান তাহলে ২০২২-২০২৩ করবর্ষের জন্য করদাতার দাখিলকৃত পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ প্রদর্শন করতে হবে (৭,00,000 + ৩,০০,০০০) = ১০,০০,০০০ টাকা।
২। ক্রয়কৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ ক্রয়মূল্য প্রদর্শন করতে হবে। ধরা যাক একজন করদাতা ১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে ১৫,০০,০০০ টাকায় একটি অকৃষি প্লট ক্রয় করেছেন, যার রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ ছিল ৩,০০,০০০ টাকা। ৩০ জুন ২০২২ তারিখে প্লটটির বাজারমূল্য ছিল ২২,০০,০০০ টাকা। এক্ষেত্রে ২০২২ ২০২৩ করবর্ষের জন্য করদাতার দাখিলকৃত পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে দলিল মূল্যের ভিত্তিতে অকৃষি প্রটের মূল্য (১৫,০০,000 + ৩,00,000) ১৮,০০,০০০ টাকা প্রদর্শিত হবে।
৩। করদাতার স্বামী/স্ত্রী বা নির্ভরশীল কোন সন্তানের আলাদা কর নথি না থাকলে তাদের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় করদাতার পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয়ের সাথে একীভূত করে দেখাতে হবে।
৪। পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর কোন ক্রমিকে স্থান সংকুলান না হলে আলাদা কাগজে সে ক্রমিকের জন্য অতিরিক্ত তথ্য লিখে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর সাথে সংযুক্ত করা যাবে। আলাদা কাগজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাগজের উপরে কর বছর, করদাতার টিআইএন এবং পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং তাতে করদাতার স্বাক্ষর থাকতে হবে। সংযুক্ত আলাদা কাগজটি পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।