It seems we can’t find what you’re looking for. Perhaps searching can help.
কৃষি-আয়
কৃষি আয়
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এর অধিকাংশ মানুষের আয়ের মূল উৎস কৃষি। পূর্বে কৃষি আয় আয়কর আইনের আওতায় করধার্য উপযোগী ছিল না। ১৯৭৬ সালের অর্থ আইনে কৃষি আয়কে আয়কর আইনের আওতায় করযোগ্য করা হয়। ১৯৮৪ সালে অধ্যাদেশে উল্লিখিত সাতটি খাতের মধ্যে চতুর্থ খাতটি কৃষি। বর্তমানে করদাতার যদি শুধুমাত্র কৃষি খাত থেকেই আয় থাকে সেক্ষেত্রে কৃষি খাতের আয় ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ যদি কোন করদাতার কৃষি খাতের আয় ব্যতীত আর কোনো খাতে আয় না থাকে তা হলে তার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা হবে
(ক) ৬৫ বছরের নীচে পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রেঃ ৩,০০,০০০/-+ ২,০০,০০০/- মোট ৫,০০,০০০/-
(খ) ৬৫ বছর বা তদুর্ধ বয়সের পুরুষ বা মহিলা করদাতার ক্ষেত্রেঃ
৩,৫০,০০০/-+ ২,০০,০০০/- মোট ৫,৫০,০০০/-
(গ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে: ৪,৫০,০০০/-+ ২,০০,০০০/- মোট ৬,৫০,০০০/-
(ঘ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার ক্ষেত্রে: ৪,৭৫,০০০/-+ ২,০০,০০০/-মোট ৬,৭৫,০০০/-
অন্য কোন আয় না থাকলে কেবলমাত্র কৃষি ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত অকরধার্য (অর্থ আইন ২০০৮ অনুযায়ী।
কৃষি আয়ের অনুমোদনযোগ্য খরচঃ
১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ২৭ (১) ধারার বিধান মোতাবেক কৃষিখাতের করযোগ্য আয় নির্ণয় করার জন্য যে সমস্ত খস বাদ দেয়া হয় তাকে কৃষি অনুমোদনযোগ্য খরচ বলে। নিম্নে কৃষি আয়ের অনুমোদনযোগ্য সম্পর্কে করা
১। জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর,
২। স্থানীয় কর বা অভিকর কৃষি কার্যে ব্যবহৃত ভূমির জন্য প্রদত্ত,
৩। মেরামত ও সংরক্ষণ খরচ,
৪। প্রক্রিয়া খরচ,
৫। ভূমি কর্ষণ ও পশুপালন ও কৃষি ভূমি হতে ফসল উৎপাদন করার জন্য ভূমি কর্ষণ করতে হয়। এই ভূমি কর্ষণ ও ঘাস চাষের যে খরচ হয় তা অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে গণ্য।
৬। পরিবহন খরচঃ
উপরিউক্ত ৩নং দফা থেকে ৬নং দফাসমূহের করবর্ষে একত্রে উৎপাদন খরচ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যেক্ষেত্রে হিসাবের বই সংরক্ষণ করা হয় না সে ক্ষেত্রে এই উৎপাদন খরচ উৎপাদিত ফসল বিক্রয়ের ৬০% অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৭। বীমা কিস্তি খরচ,
৬। সম্পত্তি-রক্ষণা-বেক্ষণ খরচ :
৯। সেচ প্রকল্প খরচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত চলতি সেচ প্রকল্পের খরচ অনুমোদনযোগ্য।
১০। সম্পত্তির অবচয় : কৃষি কাজে ব্যবহৃত মূলধনী সম্পত্তি, পাম্প মেশিন বা যন্ত্রপাতি ইত্যাদির অবচয় নিম্নোক্ত হারে অনুমোনযোগ্য।
সম্পত্তির শ্রেণী ও অবচয়ের হার
পাকা দেয়াল, পাকা কূপ =৫%
কাঁচা দালান, দেশীয় গরুগাড়ি = ২০%
পাকা দালান, যন্ত্রপাতি কলকব্জা =১০%
কাঁচা পাকা দালান, হালকা যন্ত্রপাতি = ১৫%
কাঁচা সেচ কুপ বা কুয়া =৩৩.৩৩%
ক্ষুদ্র হস্ত চালিত যন্ত্র = ২৫%
১১। বন্ধকী ঋণের সুদ ভূমি বা উন্নয়নের জন্য নেয়া,
১২। ঋণকৃত মূলধনের সুদ ভূমি অর্জন, না বা পুনরুদ্ধার করার জন্য ঋণ গ্রহণ করলে,
১৩। উদ্বৃত্ত অবচয় : কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট আয় বছরে বিনষ্ট বা ক্ষতি হলে শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য
১৪। সম্পত্তি হস্তান্তরিত ক্ষতি : কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিক্রয় বা হস্তান্তর কালে কোন ক্ষতি হলে তা অনুমোদনযোগ্য খরচ ।
১৫। মুনাফা জাতীয় খরচ ও ভূমি থেকে ভূমি আয় অর্জনের জন্য বায়িত যে কোন মুনাফা জাতীয়
১৬। উন্নয়ন খরচ : নতুন এলাকা চাষের আওতায় আনার জন্য উন্নয়ন খরচ অনুমোদযোগ্য ।
কৃষি খাতে আয়ের জন্য হিসাবের খাতাপত্র রাখা না হলে নীচের উদাহরণ অনুযায়ী কৃষি আয় হিসাব করতে হবে:
উদাহরণ-৫
ধরা যাক, জনাব আসিফের কৃষি জমির পরিমাণ ২০ একর। একর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ মণ। প্রতি মণ ধানের বাজারমূল্য ১০০০/- টাকা হলে নীট করযোগ্য কৃষি আয়ের পরিমাণ হবে:
২০ একর × ৪০ মণx বাজার মূল্য ১,০০০/- = ৮,০০,০০০/- টাকা
বাদ: উৎপাদন ব্যয় ৬০% = ৪,৮০,০০০/- টাকা
নীট কৃষি আয় = ৩,২০,০০০/- টাকা