আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৫-৩৯ অনুযায়ী ভাড়া হতে আয় পরিগণনা করতে হবে।
বিবেচ্য বিষয় যথা:-
(১) কোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য হতে অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে উক্ত সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয়।
(২) সম্পত্তির কোনো অংশ কোনো ব্যক্তির নিজ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকলে এবং তা হতে প্রাপ্ত আয় উক্ত ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় খাতে পরিগণনাযোগ্য হলে, উক্ত অংশের জন্য ভাড়া আয় প্রযোজ্য হবে না।
(৩) কোনো সম্পত্তির ভাড়ার প্রকৃতি, কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসা নির্বিশেষে যে ধরনেরই হউক না কেন, ভাড়া হইতে আয় খাতের অধীন আয় পরিগণনা করতে হবে।
মোট ভাড়ামূল্য পরিগণনা
কোনো আয়বর্ষে কোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণনা করতে হবে, যথা:-
ক = (খ+গ+ঘ)-ঙ-চ, যেখানে-
ক = মোট ভাড়ামূল্য,
খ = উক্ত সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত ভাড়ার পরিমাণ, বা সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যা অধিক,
গ = উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত অগ্রিম ভাড়া প্রকৃতির অর্থ, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,
ঘ = উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত অন্য যেকোনো অঙ্ক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যা ‘খ’ বা ‘গ’তে উল্লিখিত অঙ্কের অতিরিক্ত,
ঙ = এইরূপ কোনো অগ্রিম অঙ্ক, যা পূর্ববর্তী কোনো আয়বর্ষে গৃহীত হবার কারণে মোট ভাড়ামূল্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তবে উক্ত অগ্রিম বিবেচ্য আয়বর্ষের ভাড়ার বিপরীতে ভাড়াগ্রহণকারী কর্তৃক সমন্বয় করা হয়েছে,
চ= শূন্যতা ভাতা,
কোনো মাসে করদাতার ভাড়া আয় না থাকলে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে প্রতিমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে অবহিত করতে হবে।
ভাড়া হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন ভাড়া হইতে আয় হিসাবের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত খরচ বিয়োজনযোগ্য হবে, যথা:-
(ক) কোনো সম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকির বিপরীতে কোনো বীমা করা হলে তার জন্য পরিশোধিত প্রিমিয়াম;
(খ) সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে কোনো মূলধনি ঋণ গ্রহণ করা হলে সে ঋণের উপর পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা;
(গ) সম্পত্তির উপর পরিশোধিত কোনো কর, ফি বা অন্য কোনো বার্ষিক চার্জ, যা মূলধনি চার্জ প্রকৃতির নয়;
(ঘ) মেরামত, ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লেখিত অঙ্ক, যথা:- (মোট ভাড়া মূল্যের শতকরা হারে)
১. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহ সম্পত্তির ৩০% (ত্রিশ শতাংশ) বিয়োজন্যোগ্য খরচ
২. অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তির ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) বিয়োজন্যোগ্য খরচ
৩. অন্যান্য সম্পত্তি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ১০% (দশ শতাংশ) বিয়োজন্যোগ্য খরচ
(ঙ) সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, মেরামত, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যবহৃত কোনো মূলধনি ঋণের উপর কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সে সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর সাথে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ হতে একাদিক্রমে মোট ৩ (তিন) আয়বর্ষে সমকিস্তিতেবিয়োজনযোগ্য হবে।
(চ) ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা বা তার কোনো অংশ, যদি থাকে, দফা (ঙ)-তে বর্ণিত সময়ের পরে বিয়োজনযোগ্য হবেনা।
(ছ) সম্পত্তির আংশিক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়ার বিপরীতে আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হবে।
(জ) যেক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি আয়বর্ষের অংশবিশেষের জন্য ভাড়া প্রদান করা হয়, সেক্ষেত্রে ভাড়া প্রদানকৃত সময়ের আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হবে।
জ) কোনো করদাতা তার বাড়ী আবাসিক বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভাড়া দিলে, সে আয় রিটার্নের গৃহ-সম্পত্তির আয়ের ঘরে দেখাতে হবে।
উদাহরণ : নাটোর জেলা সদরে জনাব দিহানের একটি চারতলা আবাসিক বাড়ী রয়েছে। ঐ বাড়ীর নীচতলায় তিনি সপরিবার বসবাস করেন। বাকী তিনটি তলার প্রতিটি আবাসিক ব্যবহারের জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে পৌরকর বাবদ ১৬,০০০ টাকা, ভূমির খাজনা বাবদ ৫০০ টাকা এবং গৃহ- নির্মাণ ঋণের ব্যাংক সুদ বাবদ ২০,০০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। জনাব দিহানের গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের হিসাব হবে নিম্নরূপ:
মাসিক ভাড়া ১৫,০০০ x ৩টি তলা x ১২ মাস = ৫,৪০,০০০
বাদ: অনুমোদনযোগ্য খরচ
১। মেরামত ব্যয় (ভাড়ার ২৫%) ১,৩৫,০০০
২। পৌর কর (১৬,০০০x ৩/8)* ১২,০০০
৩। ভূমি রাজস্ব (৫০০ x 3 / 8 ) * ৩৭৫
৪। গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদ (২০,০০০x৩/৪) * ১৫,০০০ , মোট = ১,৬২,৩৭৫
গৃহ-সম্পত্তি থেকে নীট আয় = ৩,৭৭,৬২৫
* স্বনিবাস ১/৪ অংশ ও ভাড়া ৩/৪ অংশ
জনাব দিহানের নিরুপিত মোট আয় ৩,৭৭,৬২৫ টাকার বিপরীতে ধার্য্যকৃত করের পরিমাণ হবে-
| মোট আয় | করহার | করের পরিমান |
| প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর | ০% | শূন্য |
| অবশিষ্ট ২৭,৬২৫ টাকা আয়ের উপর | ৫% | ১,৩৮১ |
আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২০২৪ থেকে সংগৃহিত