পূর্বের প্রচলিত আইনে বেতনের বিভিন্ন খাত অনুযায়ী অকরধার্য (যে আয়ের উপর বা আয়ের যে সীমা পর্যন্ত কর দিতে হয় না) বা বিভিন্ন ছাড় পাওয়া যেত । বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি- খাত সমূহের উপর নির্ধারিত হারে অকরধার্য ছিল যা নতুন আয়কর আইন -২০২৩ এ খাতওয়ারি অকরধার্য বা ছাড় না দিয়ে অনেকটা সহজ করে চাকরি হতে আয়ের এক ততৃীয়াংশ অথবা ৪,৫০,০০০ টাকার মধ্যে যেটি কম তাহা চাকরি হতে আয়ের অকরধার্য অর্থাৎ যেটি কম সেটি মোট চাকুরি হতে আয় থেকে বাদ দিতে হবে। অকর ধার্য পরিমান বাদ দেয়ার পর হবে মোট করযোগ্য আয়।
বর্তমান আয়কর আইন – ২০২৩ এ বিনিয়োগ জনিত কর রেয়াত নিয়মে ও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে । নতুন আইন অনুযায়ী করদাতার মোট আয়ের তিন শতাংশ বা নিয়মমাফিক মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ বা ১০,০০,০০০ লাখ টাকা- এর মধ্যে যেটি কম হবে, তাই বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের পরিমাণ হবে। নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ হল, জীবন বীমা প্রিমিয়াম (মোট মূল্যের ১০%), অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের সদস্যদের জীবন বীমা প্রিমিয়াম, সরকারি চাকরির শর্তানুযায়ী বার্ষিক বৃত্তি/নিরাপত্তা বাবদ কর্তন (২০%), সরকারি বা বিধিবদ্ধ ভবিষ্য তহবিলে (১৯২৫) চাঁদা, অনুমোদিত ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা বার্ধক্য তহবিলে চাঁদা, স রকারি সিকিউরিটি, সঞ্চয়পত্র, ইউনিট সার্টিফিকেট, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সার্টিফিকেট (সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকা পর্যন্ত), ডিপোজিট পেনশন স্কীমে প্রদত্ত অর্থ (সর্বোচ্চ ১২০,০০০ টাকা পর্যন্ত), স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ এ বিনিয়োগ, এছাড়াও র ইয়েছে অনুমোদিত তহবিলে দান।
সরকারি কর্মচারীদের সরকারকতৃক প্রদত্ত সকল ভাতা করমুক্ত। শুধু মাত্র বেতনের নিম্নোক্ত তিনটি খাত করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত। ১. মূল বেতন, ২. উৎসব ভাতা ৩. বোনাস, অবসরকালে প্রদত্ত ল্যাম্প গ্রান্টসহ অন্যান্য ভাতা চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা, বিনোদন ভাতা করমুক্ত। এস. আর. ও নং ২২৫-আইন/আয়কর-৭/ ২০২৩ এর মাধ্যমে সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের কোন কোন খাতে কার যোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং কারা সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবে সেই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের মত কোন অব্যাহতি নাই। এবার করের পরিমাণ নির্ধারণে করের হার জানা গুরুত্বপূর্ণ- প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ০%, পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৫%, পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১০%, পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%, পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০%, অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ২৫%।
নতুন আয়কর আইনে করমুক্ত সীমাতে ও এসেছে পরিবর্তন যেমন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য ৩,৫০,০০০ টাকা, মহিলা বা ৬৫ বছরের উর্ধ্বে ব্যক্তিবর্গের জন্য ৪,০০,০০০ টাকা, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪,৭৫,০০০ টাকা, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫,০০,০০০ টাকা, প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবক অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সীমা হবে।

উদাহরণ :- রহিম, একজন বেসরকারি কর্মকর্তা যার ২০২২-২৩ আয়বর্ষে মোট আয় এর পরিমাণ ১৮ লক্ষ টাকা হলে এবং তার কোন অনুমোদিত বিনিয়োগ নাই, তার আয়কর কত হবে? উ:- রহিমের বার্ষিক মোট আয় ১৮,০০,০০০ টাকা,
আয়ের এক-তৃতীয়াংশ, ৬,০০,০০০ টাকা বা ৪৫০০০০ মধ্যে যা কম তা মোট আয় থেকে বাদ যাবে অকর ধার্য হিসেবে অর্থাৎ করযোগ্য আয় ১৮,০০,০০০- ৪,৫০,০০০= ১৩,৫০,০০০ টাকা, এখন এখানে কর হার প্রয়োগ করব, প্রথম ৩,৫০,০০০০ টাকার ০%, পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকার ৫% অর্থাৎ ৫, ০০০ টাকা, একই ভাবে পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা এর ১০% অর্থাৎ ৩০,০০০, পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকার ১৫% অর্থাৎ ৬০,০০০ টাকা, পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকার আলোচ্য ক্ষেত্রে ২,০,০০০ টাকার ২০% অর্থাৎ ৪০,০০০ টাকা, পরিশেষে তার মোট আয়কর হয় ১,৩৫,০০০ টাকা ।

Very nice to see the important information. Thanks Mr Ariful Islam. Carry on.
আমি যেটা বুজলাম, চাকুরীজীবিদের ( সরকারি /বেসরকারি) আয় থেকে কর নির্ধারণ করার ধাপসমূহ
১)আয়ের ১/৩ বা ৪৫০০০০ টাকা থেকে যেটা কম সেটা বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় নির্ধারণ
২)কর রেয়াত নির্ণয় করে তা করযোগ্য আয় থেকে বাদ দিয়ে নিট করযোগ্য আয় নির্ধারণ
৩)নিট করযোগ্য আয় থেকে আয়ের ধাপ অনুসারে নির্দিষ্ট হারে (%) প্রয়োগ করে আয়কর নির্ধারণ করা হয়।