রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম
বিষয়টি গর্বের ও আনন্দের। ভাবতেই ভাল লাগে যে, আমি জীবনে প্রথম আয়কর রিটার্ন ফাইল জমা দিয়ে, একনলেজমেন্ট বা রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিচ্ছি। প্রথম আয়কর রিটার্ন মানে যে কোনো টি. আই. এন. এর বিপরীতে জমাকৃত প্রথম আয়কর রিটার্ন ।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আনন্দের ছলে অনেকে গুরুত্ব না দিয়ে পরবর্তীতে বিপাকে পড়ে। অথচ প্রথম রিটার্ন সুন্দর ভাবে সকল প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে গুছিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। এতে করে পরবর্তী বছরের রিটার্ন প্রস্তুতি প্রক্রিয়া সহজ হয়। করদাতার আয় প্রদর্শন, যেমন গুরুত্ব বহন করে, তেমনি তার জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়, পরিসম্পদ ও দায় বিবরণী তার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য হবে এটাই স্বাভাবিক । আরো মনে রাখা দরকার যে, প্রথম রিটার্নের নীট সম্পদ এর জের পরবর্তী বছরে উল্লেখ করতে হয়। তাই গুরুত্বের সাথে বিষয়গুলো দেখাতে হয়। এক ক্থায় কিছুটা কৌশলী হতে হয়। খেয়াল রাখতে হবে, যদি করদাতার টি. আই. এন. পূর্বের কোন বছরের হয়ে থাকে, তবে পূর্ববর্তী বছরের/ বছরগুলোর রিটার্ন ও স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে প্রস্তুত করে জরিমানা সুদসহ তা ও পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে প্রথম আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করা ভাল।

মনে রাখা জরুরি যে, প্রথম রিটার্ন প্রস্তুতে সম্পদ দায়-দেনা কোন কিছুই লুকানো ঠিক নয়। কেননা পরবর্তী বছরগুলোতে তা আবার যুক্ত করা সহজ নয়। কেননা সাধারণত উপার্জন বা আয়ের সাথে সম্পদ সরাসরি জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতার আয় মাসে ১,০০,০০০/- টাকা, অর্থাৎ বছরে ১২,০০,০০০/-, ঐ বছরে তার সম্পদ অতটুকুই বাড়তে বা অর্জন হতে পারে যা তার মোট আয় থেকে তার জীবন যাত্রার ব্যয় বাদ দিলে হয় অর্থাৎ নীট সঞ্চয় এর সমান (মোট আয় বিয়োগ মোট জীবন যাত্রার ব্যয়)। অতএব পরবর্তীতে সম্পদ যুক্ত করা মোটেও সহজ কাজ নয়।তাছাড়াও প্রথম রিটার্নে আয়কর অফিস ও কিছুটা নমনীয় ও সহায়ক থাকে যেহেতু কর দাতার প্রথম আয়কর রিটার্ন।
উল্লেখ্য যে নীট আয় বা নীট সঞ্চয়ের অতিরিক্ত সম্পদ অর্জন তখনি সম্ভব যদি করদাতার ক্যাপিটেল গেইন বা দান সুত্রে সম্পদ প্রাপ্তি হয় । প্রথম রিটার্ন প্রস্তুতে, আয়ের প্রমাণস্বরূপ যেমন বেতন বিবরণী বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আয়ব্যয় বিবরণী (ব্যবসার ক্ষেত্রে) দিতে হয়, তেমনি সম্পদ অর্জন এর ডকুমেন্ট বা ডিক্লেয়ারেসন জমা দেয়া শ্রেয়। এতে রিটার্নটি পরিপূর্ণ হয়। সবসময়ে সব করদাতার জন্য জীবনযাপন সংশ্লিষ্ঠ ব্যয়, পরিসম্পদ ও দায় বিবরণী জমাদান বাধ্যতামূলক নয়। জেনে রাখা যায় যে, করদাতার সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে মোট আয় ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক হলেই কেবল জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী জমাদান বাধ্যতামূলক, এবং আয়বর্ষের শেষ তারিখে ৪০ (চল্লিশ) লক্ষ টাকার অধিক মোট সম্পত্তির মালিক হলে পরিসম্পদ ও দায় বিবরণী জমাদান বাধ্যতা মূলক । বাধ্যতামূলক বা আবশ্যিক না কিন্তু ঐচ্ছিক ক্ষেত্রে হলেও এগুলো জমাদান আপনার রিটার্ন কে অর্থবহ করে তুলবে যা পরবর্তী বছরের রিটার্ন গুলো প্রস্তুতে সহায়ক হয়। আপনার প্রথম আয়কর রিটার্নে জমাকৃত সকল ডকুমেন্ট ও একটি রিটার্নের কপি একটি ফাইলে সংরক্ষণ করুন। রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি বর্তমানে ৪৩ টি ক্ষেত্রে দাখিল করতে হয়।